ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ওডিশার ২৪ বছর বয়সী গায়িকা জ্যোতির্ময়ী নায়ক। দীর্ঘ ১০ মাসের এই প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের তনিষ্ক শুক্লা। প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহ। ‘ইয়াঁদো কি প্লেলিস্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই রিয়্যালিটি শোটির জনপ্রিয়তা থাকায় এর মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানো হয়েছিল।
পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি
জয়ী হওয়ার পর জ্যোতির্ময়ী জানান, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে পা রাখার পর থেকে এই যাত্রা তাঁর জীবনের বড় অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, শুরুতে তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল ভালো গান গাওয়া এবং বিচারকদের প্রশংসা পাওয়া, পুরস্কারের অর্থ নিয়ে তিনি ভাবেননি। এখন এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করবেন তিনি। প্রতিযোগিতার কঠিন মুহূর্ত হিসেবে তিনি এলিমিনেশনের সময় নিচের সারিতে চলে যাওয়াকে উল্লেখ করেন। তবে দর্শকদের ভালোবাসা ও নিজের পরিশ্রমের ফলেই তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন বলে জানান তিনি।
ক্যানসার রোগীদের সেবা ও সংগীত
সংগীতচর্চার পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ী একজন মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবে ক্যানসার রোগীদের গান শুনিয়ে মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার কাজ করতেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সেই রোগীদের আশীর্বাদ এবং তাঁদের শুভকামনাই তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। রোগীরাই তাঁকে একদিন এই মঞ্চে দেখতে চেয়েছেন, যা তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ঐতিহাসিক জয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইন্ডিয়ান আইডলের ইতিহাসে প্রথম ওড়িয়া নারী হিসেবে এই শিরোপা জিতেছেন জ্যোতির্ময়ী। নিজের এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি তাঁর বাবা-মায়ের নিরন্তর সমর্থনকে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অংশিকা চোংকর, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু ও সুহাইল সুফি। সমাপনী অনুষ্ঠানে উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল ও উর্মিলা মাতন্ডকর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক শ্রেয়া ঘোষাল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই প্রতিযোগিতা সব প্রতিযোগীর সংগীতজীবনের নতুন সূচনা হিসেবে কাজ করবে।