মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘চমক হিসেবে’ এই হামলাটি পরিচালনা করেছে। এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামলার বিষয়ে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় মার্কিন সেনারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব
মার্কিন বাহিনীর ওপর এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮২ মার্কিন ডলারে। উল্লেখ্য, এর আগে আলোচনার প্রত্যাশায় তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।
চলমান উত্তেজনার পটভূমি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। জুনে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলাকে কেন্দ্র করে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে, যা টানা ১৩ রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে গত শুক্রবার থেকে এই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও ইরান পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।