স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে, বলেছে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। দ্রুত ঢল নামায় অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ন হওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা প্রায় ৮৪ হাজারের এই ছোট ভূখণ্ডে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে সাঁতরে এবং স্থলসীমান্ত পেরিয়ে একযোগে প্রবেশ করেন। সীমান্ত নিরাপত্তার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হওয়া এই ঘটনার ফলে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার সিউটায় সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঞ্চলটি সফর করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ইউরোপজুড়ে এ ঘটনা উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে সিউটার দৃশ্য দেখায় নিয়ন্ত্রণহীন অবৈধ অভিবাসন ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাগরপথে প্রবেশকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না এমন স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের গত মাসের রায়ের পরে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য বিশ্লেষকের ধারণা, মরক্কো কর্তৃপক্ষের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় সংখ্যক মানুষের সীমান্ত অতিক্রম করা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও স্পেন ও আলজেরিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে মরক্কোর অসন্তোষও এই ঘটনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে সীমান্তে অতিরিক্ত তল্লাশি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রবেশের ঘটনাগুলোর একটি, যা ইউরোপে নতুন করে অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সূত্র: www.bd24live.com
সাজু/নিএ