বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের কাছে রূপচর্চার নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে পিম্পল প্যাচের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশারদ শারমিন কচির মতে, জরুরি প্রয়োজনে ব্রণের ফোলা ভাব ও সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি একটি কার্যকর সাময়িক সমাধান। তবে এটি ব্রণের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়।
পিম্পল প্যাচ মূলত ব্রণের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল বা ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের ওপর আটকে থেকে ব্রণের ভেতর জমে থাকা তরল বা পুঁজ শুষে নেয়। স্বচ্ছ হওয়ার কারণে এটি বাইরে চলাচলের সময় সহজে চোখে পড়ে না এবং সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর ফলে ব্রণে হাত দেওয়ার সুযোগ থাকে না, যা সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
সব ধরনের ব্রণে এটি একইভাবে কাজ করে না। ত্বকের গভীরে থাকা সিস্টিক একনে বা হরমোনজনিত দীর্ঘমেয়াদি ব্রণের ক্ষেত্রে এটি খুব একটা কার্যকর নয়। এ ধরনের সমস্যার জন্য ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্যাচ নির্বাচন করা জরুরি। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত, সংবেদনশীল বা শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রোকলয়েড এবং স্বাভাবিক ত্বকের জন্য টি-ট্রি অয়েলযুক্ত প্যাচ ব্যবহার করা উচিত।
প্যাচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। মুখ ভালোমতো পরিষ্কার ও শুকিয়ে নেওয়ার পর প্যাচ লাগাতে হয়। ত্বকে তেল বা ময়েশ্চারাইজার থাকা অবস্থায় এটি ব্যবহার করলে কার্যকর হয় না। এছাড়া প্যাকেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪ থেকে ১২ ঘণ্টা বা সারা রাত এটি ত্বকে রাখা যেতে পারে।
অপরিচ্ছন্ন মুখে বা মেকআপের ওপর প্যাচ ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে, এতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পরিশেষে, দাগহীন ও সুস্থ ত্বকের জন্য পিম্পল প্যাচের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।