ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

ময়মনসিংহের পোড়াবাড়িয়ায় পরচুলা শিল্পে স্বাবলম্বী দুই হাজার নারী


September 5, 2026 12:15 pm
Link Copied!

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পোড়াবাড়িয়া গ্রামে স্থানীয়ভাবে পরচুলা (উইগ) তৈরির একটি শিল্প গড়ে উঠেছে, যা শত শত নারীর ভাগ্য বদলে দিয়েছে। পিবাড়িয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ২০০৭ সালে নিজ গ্রামে এই উদ্যোগ শুরু করেন। বর্তমানে এই শিল্পকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং বিপুল সংখ্যক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন।

আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি

পোড়াবাড়িয়া গ্রামের শিরিন আক্তারসহ অনেক নারী এই কারখানায় কাজ করে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। অসুস্থ স্বামী ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা শিরিন ২০২২ সালে হেয়ার কোট কারখানায় যোগ দেন। বর্তমানে মাসে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আয় করে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এছাড়া সাথী আক্তার ও মাফিয়া আক্তারের মতো অনেক নারীই এই কাজের মাধ্যমে টিউবওয়েল বসানো বা শিক্ষার খরচ জোগানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম

পিবাড়িয়া গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ১৮টি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে সাতটি ময়মনসিংহে অবস্থিত। এসব কারখানায় ১ হাজার ৮৩০ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের ৯০ শতাংশই নারী। ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তৈরি এই পরচুলা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জার্মানি ও জাপানসহ মোট ২২টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ২৪ কোটি টাকার পরচুলা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সম্ভাবনা

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গফরগাঁওয়ের ১৫টি গ্রামের নারী শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে কাজের পাশাপাশি নতুনদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার জানান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মানের সঙ্গে আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এলাকায় আত্মনির্ভরশীল নারীর সংখ্যা বাড়ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পিবাড়িয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার পরচুলা তৈরির প্রযুক্তি দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করা। তবে এই শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ, পরিবহন খরচ কমানো এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।