যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের জিয়াউতং-লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সামুদ্রিক প্রাণী ‘সি স্কুইর্ট’-এ থাকা একটি বিশেষ যৌগ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে বার্ধক্য রোধে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। গবেষক দলের দাবি, প্লাজমালোজেন নামক এই উপাদানটি বয়স্ক ইঁদুরের স্মৃতিশক্তি উন্নত করা, মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ শক্তিশালী করা এবং বার্ধক্যজনিত শারীরিক পরিবর্তনের লক্ষণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক লেই ফু জানান, প্লাজমালোজেন কেবল মস্তিষ্কের কার্যকারিতার অবক্ষয় রোধ করে না, বরং বয়স্ক মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত কার্যক্ষমতাকে পুনরুদ্ধারেও সহায়তা করে। পরীক্ষার অংশ হিসেবে যেসব বয়স্ক ইঁদুরকে এই উপাদানটি খাওয়ানো হয়েছিল, তাদের শরীরে আগের চেয়ে ঘন এবং উজ্জ্বল নতুন কালো লোম গজাতে দেখা গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাজমালোজেন ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রদাহের মাত্রা কমিয়েছে এবং স্নায়ুকোষের সংযোগ বা সিন্যাপসের সংখ্যা ও গুণমান উন্নত করেছে। সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের কোষে এই উপাদানের মাত্রা কমতে থাকে, যা আলঝেইমার বা পারকিনসনের মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষকদের মতে, এই উপাদানের ব্যবহার নিউরো-ডিজেনারেশন বা স্নায়বিক অবক্ষয় রোধে ভবিষ্যতে একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
উল্লেখ্য, সি স্কুইর্ট এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে কোরিয়া ও জাপানে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তবে ইঁদুরের ওপর সফল পরীক্ষার পর এটি মানুষের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী ও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।