যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে তৈরি মানব মস্তিষ্কের কোষ ইঁদুরের মস্তিষ্কে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণগত বিজ্ঞানের অধ্যাপক সারজিউ পাস্কার নেতৃত্বে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে, যা নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। স্নায়ুজনিত বা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ নিয়ে গবেষণার মডেল হিসেবে এই প্রযুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক দলটির উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিতে ইঁদুরের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের একটি বড় অংশ অপসারণ করে সেখানে মানব মস্তিষ্কের কোষ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ইঁদুরের মস্তিষ্কের ভেতরে মানব নিউরনের নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অবস্থা অনুকরণ করতে সক্ষম। অধ্যাপক পাস্কার মতে, এটি গবেষণাগারে মানব মস্তিষ্কের কার্যক্রম বুঝতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তবে এই উদ্ভাবন নিয়ে নৈতিক উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিউক ল’ স্কুলের অধ্যাপক নিতা ফারাহানি জানান, মানব কোষ ইঁদুরের মস্তিষ্কে ব্যবহারের ফলে প্রাণীটির মধ্যে সচেতনতা বা চেতনার উদ্ভব হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। গবেষকরা যদিও পরীক্ষাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তবুও ভবিষ্যতে বড় কোনো প্রাণীর ওপর এই প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে এই মডেলটি মূলত শিশুদের স্নায়ুবিক জটিলতা, সেরিব্রাল পালসি এবং মৃগীরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বোঝার ক্ষেত্রে নতুন পথ তৈরি করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে গবেষণার ক্ষেত্রটি নতুন হওয়ায় এবং কোনো সুস্পষ্ট নৈতিক নীতিমালা না থাকায় প্রযুক্তিটির প্রয়োগ নিয়ে সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।