বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্য অভিযোগ করেছে যে, সরকার সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জোটটির সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন। সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে সরকার এখন সংশোধনের পথে হাঁটছে, যা জনম্যান্ডেটের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ড. আযাদ বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফায় রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সরকার পরিবর্তনের রায় দিয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতো। কিন্তু সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করলে তা ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, যেমনটি অতীতে বিভিন্ন সংশোধনীর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে জোট নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ার বিষয়টিকেও তারা সংস্কারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আযাদ জানান, আগামী ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর পল্টনে একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেট ও হবিগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির লক্ষণ। তিনি দ্রুত এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।