যুক্তরাজ্যের পেট্রোলের দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে দেশটির সাধারণ চালকদের আর্থিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে। আরএসি (RAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গড়ে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৬০ পেন্সের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, যা বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করেছে।
তেলের দামের প্রভাব
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম মূলত পাইকারি বাজারের তেলের দামের ওপর নির্ভরশীল। ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম প্রায় ৭ পেন্স বেড়ে যায়। যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থাকলেও সংঘাতের তীব্রতায় তা ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বর্তমানে দাম ৮০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ডিজেলের বর্তমান অবস্থা ও সরকারি উদ্যোগ
পেট্রোলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেও, ডিজেলের দাম ১৫ এপ্রিলের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৯১.৫৪ পেন্সের নিচে রয়েছে। বর্তমানে ডিজেল প্রতি লিটার ১৮১.৫ পেন্স দরে বিক্রি হচ্ছে। আরএসি-এর নীতি প্রধান সাইমন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, একটি পারিবারিক ডিজেল গাড়ি ফুল ট্যাংক করতে এখন ১০০ পাউন্ড খরচ হচ্ছে, যা জুন মাসের পর প্রথম। পেট্রোলের ক্ষেত্রে এই খরচ ৮৯ পাউন্ড।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও হরমোজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমোজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় তেলের সরবরাহ কমেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শান্তি চুক্তি হলেও স্বাভাবিক শিপিং কার্যক্রম ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। যদিও খুচরা বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি বা মুনাফাখোরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাও এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পায়নি।
পূর্ববর্তী পরিস্থিতি
উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম ১৯১.৫ পেন্স এবং ডিজেল ১৯৯ পেন্স পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই তুলনায় কিছুটা কম হলেও, জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। এছাড়া গত ২০ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জ্বালানি শুল্কের ওপর ৫ পেন্সের বর্ধিত কর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।