বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন বাইরে ঘোরাফেরা করার দায়ে স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তে ওই ছাত্রীসহ দুজনকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার বিবরণ
এক মাস আগে কাঁচপুরের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ের পাশে বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী হাঁটছিল। এসময় স্থানীয় এক বখাটে কিশোর পেছন থেকে চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ঘটনার সময় বখাটে কিশোরের সঙ্গী কেউ একজন ভিডিওটি মুঠোফোনে ধারণ করে। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিচার ও সালিশ
ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশে অভিযুক্ত কিশোর কান ধরে ওঠবস করছে। এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, লাথি মারার ঘটনার জন্য সে ক্ষমা চাচ্ছে এবং কাঁচপুর এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনার পর বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো তার মেয়েকেই স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তারা দরিদ্র হওয়ায় এখন মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে বখাটে কিশোরের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার দাবি করেন, ঘটনাটি স্কুলের বাইরে ঘটায় স্কুল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী ওই দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।