বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধের কিছু অংশ থেকে পারসিড উল্কাপাত পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নাসা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) জানিয়েছে, মহাজাগতিক ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ওঠার মাধ্যমেই এই উল্কাপাত ঘটে, যা প্রতি বছর আগস্ট মাসে দেখা যায়। ২০২৬ সালটি এই উল্কাপাত দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুকূল।
কেন এই বছরটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত পারসিড উল্কাপাতের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০টি উল্কা দেখা যায়। এবারের উল্কাপাতের চূড়ান্ত পর্যায়ের সময় নতুন চাঁদ থাকায় আকাশ থাকবে অত্যন্ত অন্ধকার। চাঁদের আলো না থাকায় উল্কাগুলো খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বছরের তিনটি তীব্রতম উল্কাপাতের মধ্যে অন্যতম একটি।
পর্যবেক্ষণের উপায়
নাসা ও ইএসএ-এর পরামর্শ অনুযায়ী, উল্কাপাত দেখার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে অন্ধকার কোনো জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। আকাশ ভালোভাবে দেখার জন্য দিগন্ত উন্মুক্ত এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে। চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে এবং এই সময়ে মোবাইল ফোন বা উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
উল্কাপাত দেখার জন্য টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই, বরং খালি চোখেই এটি সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। কারণ টেলিস্কোপ ব্যবহারের ফলে দেখার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে যায়। পারসিড উল্কাগুলো আকাশজুড়ে যেকোনো দিকেই দেখা যেতে পারে। তাই আরামদায়ক কোনো চেয়ারে শুয়ে বা আকাশ বরাবর তাকিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, বিশেষ করে মধ্যরাতের পর উল্কাপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।