যুক্তরাষ্ট্রের সিরাকিউস ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক মহাকাশে ব্ল্যাক হোলের কবলে পড়া নক্ষত্রদের টিকে থাকার রহস্য উদঘাটন করেছেন। বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, কিছু নক্ষত্র সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের খুব কাছ দিয়ে বারবার যাতায়াত করার সময় মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হলেও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয় না। এই ঘটনাগুলোকে ‘রিপিটিং পার্শিয়াল টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্টস’ (rpTDEs) বলা হয়। প্রতিটি এমন যাত্রায় নক্ষত্রগুলো থেকে নতুন আলোর ঝলকানি নির্গত হয়, তবে রহস্যজনকভাবে সময়ের সাথে সাথে সেই আলোর উজ্জ্বলতা কমতে থাকে।
গবেষণাটি ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নক্ষত্রটি ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি আসার আগেই কী গতিতে ঘুরছিল, তা টিকে থাকার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত ব্ল্যাক হোলের শক্তিশালী মহাকর্ষীয় টানে কোনো নক্ষত্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে কিছু নক্ষত্র কেবল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কক্ষপথে টিকে থেকে বারবার ব্ল্যাক হোলের সামনে ফিরে আসে। গবেষক অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, বেঞ্জামিন অ্যামেন্ড এবং এরিক কফলিন তাদের সিমুলেশনে দেখেছেন, নক্ষত্রের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং তার ঘূর্ণন গতি এই উজ্জ্বলতা হ্রাসের কারণ।
গবেষণার প্রধান অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ব্ল্যাক হোলের জোয়ার-ভাটা বলের কারণে নক্ষত্রটি তার বাইরের স্তরের কিছু অংশ হারিয়ে ফেলে। তবে যদি নক্ষত্রটি আগে থেকেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ঘোরে, তবে পরবর্তীতে তা আর খুব বেশি গতি অর্জন করতে পারে না। এর ফলে, নক্ষত্র থেকে বিচ্যুত পদার্থের প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে হ্রাস পায় এবং আলোর ঝলকানি ক্রমেই ক্ষীণ হতে থাকে।
এরিক কফলিন ব্যাখ্যা করেন, এই নক্ষত্রগুলো ব্ল্যাক হোলের সাথে কীভাবে যুক্ত হয়, তার পেছনে ‘হিলস মেকানিজম’ কাজ করতে পারে। এতে দুটি নক্ষত্র একসাথে ব্ল্যাক হোলের কাছে এলে মহাকর্ষীয় টানে একটি নিক্ষিপ্ত হয় এবং অন্যটি ব্ল্যাক হোলের কক্ষপথে আটকে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটিই নক্ষত্রগুলোর অস্বাভাবিক দ্রুত ঘূর্ণন ও ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’-এর চারপাশের নক্ষত্রদের আচরণ বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করবে।