যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই গ্রীষ্মে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও অসুস্থতার হার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরকারি নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাঠামোগত ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ফুড সেফটি অ্যান্ড নিউট্রিশনের পরিচালক বারবারা কোয়ালসিক জানান, বর্তমান সংকটটি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাকেই প্রকাশ করছে।
খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত খাদ্যজনিত অসুস্থতার ১২ হাজার ৮০০টিরও বেশি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের হার নজিরবিহীন। মূলত লেটুস পাতাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া এই পরজীবী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া জালপেনো মরিচ ও ডিমে সালমোনেলা এবং আলফালফা স্প্রাউটে ই-কোলি ও সালমোনেলার সংক্রমণের মতো একাধিক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জালপেনো থেকে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩১ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফেডারেল জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোয় বাজেট হ্রাস এবং দক্ষ জনবলের অভাব। গত কয়েক বছরে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং এফডিএ-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই ও পদ শূন্য থাকার বিষয়টি কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এছাড়া খাদ্যপণ্যের উৎস ট্র্যাকিং বা ট্রেসিবিলিটি সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং আমদানি করা খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘসূত্রতা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এফডিএ-র নতুন নীতিমালা অনুযায়ী খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর রেকর্ড রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, গ্রীষ্মকাল শেষ হলেও এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এখনই কমছে না। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী আরও দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকতে পারে, যার ফলে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।