কানাডার হার্শেল আইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় আলফ্রেড ওয়েজেনার ইনস্টিটিউট এবং ইউনিভার্সিটি অফ ব্রেমেনের গবেষকরা আর্কটিকের পারমাফ্রস্ট থেকে নির্গত কার্বনের গতিবিধি নিয়ে এক নতুন তথ্য উদঘাটন করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিকের বরফ ও পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ায় যে প্রাচীন কার্বন সমুদ্রে মিশছে, তার সিংহভাগই সমুদ্রের তলদেশে আটকা পড়ছে। এই ফলাফলটি জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিতে বিজ্ঞানীদের আরও নিখুঁত মডেল তৈরিতে সাহায্য করবে।
আর্কটিকের পারমাফ্রস্টে প্রায় ১,৩০০ গিগাটন জৈব কার্বন জমা আছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভূমি গলে সমুদ্রের পানিতে কার্বন মিশছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর প্রায় ০.০২ গিগাটন কার্বন সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ২১০০ সাল নাগাদ এই প্রবাহ ৭০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে আশার কথা হলো, এই কার্বনের মাত্র ১০ শতাংশ অণুজীবের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের তলদেশের অণুজীবগুলো কার্বন গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ খুঁতখুঁতে। তারা পারমাফ্রস্ট থেকে আসা প্রাচীন কার্বনের চেয়ে সামুদ্রিক শৈবাল থেকে প্রাপ্ত নতুন কার্বন বেশি পছন্দ করে। এই বিশেষ খাদ্যাভ্যাসের কারণেই প্রাচীন কার্বনের একটি বড় অংশ গ্যাসে পরিণত না হয়ে তলদেশে সংরক্ষিত থাকছে।
এই কার্বন প্রবাহের ফলে উপকূলীয় পানি ঘোলাটে হয়ে পড়ছে, যা শৈবাল ও জলজ প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই তথ্যগুলো বিশ্ব জলবায়ু মডেলের অনিশ্চয়তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৭ সালে ‘আর্কটিক পালস’ নামক আন্তর্জাতিক অভিযানের মাধ্যমে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের।