বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীতে নতুন পানি আসায় নদীপাড়ের জনজীবনে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। শুকিয়ে যাওয়া বালুচর ছাপিয়ে নদী এখন পানিতে টইটম্বুর, যা উপভোগ করতে নদীর তীরে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীরা।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাটে দেখা যায়, নদীপাড়টি যেন একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষ নদীর বিস্তৃত জলরাশি ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন। নদীকেন্দ্রিক এই নতুন পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রশান্তির কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় দীর্ঘ বিরতির পর পুরোদমে শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল। মাঝিদের হাঁকডাকে ঘাট এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ নিচ্ছেন। তরুণদের কেউ কেউ দল বেঁধে নৌকায় সময় কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে নদীর শান্ত ঢেউয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
পদ্মায় নতুন পানি আসায় স্বস্তি ফিরেছে জেলেদের মধ্যেও। নদীতে জাল ফেলে তারা মাছ ধরছেন এবং তীরে অস্থায়ী আড়ত বসিয়ে তা বিক্রি করছেন। নদী থেকে সরাসরি ধরা জীবন্ত মাছ কেনার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীরাও মাছের বাজারে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, এখানে বিভিন্ন আকারের মাছ ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে নদীর বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান। জিলাপি, চটপটি, ফুচকা ও গ্রাম্য পিঠাপুলির পাশাপাশি শিশুদের খেলনা ও বেলুনের দোকানগুলো এলাকাটিকে উৎসবমুখর করে তুলেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আলোকসজ্জা ও মানুষের কোলাহলে নদীপাড় এক প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করছে।
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে গেলে এলাকাটি নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন পানি আসায় নৌকা চলাচল, মাছ ধরা এবং কেনাবেচা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের আয়-রোজগারেও গতি ফিরেছে। ছুটির দিনগুলোতে নদীর এই রূপ উপভোগ করতে মানুষের সমাগম আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।