যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই তেলের চালান পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরের ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
তেলের দাম কমে আসার কারণ
মার্কো রুবিও জানান, ইরান ও ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আরও আশাবাদী হয়ে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে, যা এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
ইরানের অবস্থান ও মধ্যস্থতা
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও, ওমানের মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে এর আগে অনেকবার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনো সংশয় রয়ে গেছে।
বর্তমান সংকট ও প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুথিদের বাধার কারণে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বন্দরগুলোর রুটিও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ। একইসাথে তিনি সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এই আলোচনার খবরের ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন ঘটেছে এবং মার্কিন শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।