বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে। ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
বুধবার সকাল ৯টায় গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের পাশাপাশি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই যোদ্ধা এবং সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। সভার শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছিল এক ঐতিহাসিক বিজয়। সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণের ওপর দাঁড়িয়েই দেশকে গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধারা তাদের দাবির কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের লড়াই শুধুমাত্র ভাতা বা স্বীকৃতির জন্য ছিল না, বরং মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য ছিল। আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে যথাযথ সম্মান প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর জেলার মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া জেলার হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।