বাংলাদেশের গাজীপুর সদর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় লিথী গ্রুপের পাঁচটি কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া পাওনার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মসূচি থেকে শ্রমিকরা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পূর্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, পাওনা নির্ধারণ এবং স্থগিত সভা দ্রুত আহ্বানের দাবি জানান। শ্রমিকদের এই পাওনা ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায্য পাওনা না পাওয়ায় হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ৬ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণের জন্য ২৩ জুলাই সভার দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানতে চেয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না এবং কাদের স্বার্থে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
আইনি জটিলতা ও দাবি
শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকরা জানান, একটি কথিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে নোটিশ পে ১৫ দিন এবং প্রতি বছরের জন্য ১০ দিনের মূল মজুরির সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, আইন অনুযায়ী নোটিশ পে ৩০ দিন এবং প্রতি বছরের জন্য ৩০ দিনের মূল মজুরির সমপরিমাণ সার্ভিস বেনিফিট নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যালয়ে চাপ সৃষ্টি করে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
অবস্থান কর্মসূচি শেষে শ্রমিকরা দ্রুত স্থগিত সভা পুনরায় আহ্বান, শ্রম আইন অনুযায়ী পূর্ণ পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের ওপর কোনো অন্যায় সমঝোতা চাপিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান। লিথী গ্রুপের হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এই পাওনা নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করায় তারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।