যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর অষ্টম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ম্যানি রুটিনেল ২০২২ সালে লেখা একটি গবেষণাপত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় পশু পালন শিল্পে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবটি সামনে আসার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক, যা নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়েছে।
পরিবেশ আইন ইনস্টিটিউটের সাথে যৌথভাবে লেখা ওই নথিতে রুটিনেল দাবি করেছিলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্য ব্যবস্থায়, বিশেষ করে পশুপালনে সরকারি কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন। তার মতে, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রথাগত পশুপালন শিল্প থেকে উদ্ভিদভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থায় রূপান্তর জরুরি।
প্রস্তাবিত ওই গবেষণাপত্রে রুটিনেল পশুপালন খামারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ, বিভিন্ন বিধিনিষেধ বা সরকারি আদেশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিলেন। এছাড়া পশুপালন খামারগুলোকে উদ্ভিদভিত্তিক অপারেশনে রূপান্তরের জন্য সরকারি সরাসরি অর্থায়নের পক্ষেও মত দেন তিনি।
কলোরাডোর ওই জেলাটি মূলত বিশাল রানিং বা পশুপালন শিল্পের কেন্দ্রস্থল। সেখানকার অর্থনীতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে গরুর মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদন। রুটিনেলের এই পুরোনো অবস্থান সেখানকার ভোটার এবং রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির মুখপাত্র জ্যাক ক্রাফট রুটিনেলের এই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের পরিকল্পনা কেবল চাকরির সুযোগই কমিয়ে দেবে না, বরং দেশজুড়ে মাংসের ঘাটতি তৈরি করবে।
সম্প্রতি রুটিনেল তার বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি কলোরাডোর খামারিদের সম্মান করেন এবং তারা অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তিনি কেবল শিল্পে থাকা কিছু অনিয়ম ও পশু নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আগামী ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রুটিনেল রিপাবলিকান প্রার্থী গেব ইভান্সের মুখোমুখি হবেন।