যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করতে ব্যর্থ হওয়ায় মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায় সেই ৩সে ৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার অতিরিক্ত, যা মার্চ মাসে একই মামলায় মেটাকে দিতে হয়েছিল।
বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড তার রায়ে উল্লেখ করেন যে, নিউ মেক্সিকোর কিশোর-কিশোরীরা গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকটের পেছনে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। জরিমানার এই অর্থ শিশুদের সচেতনতা, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ৪২০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিচারক বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘জনদুর্ভোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মেটার কার্যক্রমকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট পণ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণকে দূষণ হিসেবে দেখা উচিত, যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মেটাকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সেটিংস বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া তাদের অ্যাকাউন্টগুলো সার্চ বা রিকমেন্ডেশনে দেখানো যাবে না এবং বন্ধুদের তালিকা শুধুমাত্র একই বয়সী ব্যবহারকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজ এই রায়কে শিশুদের সুরক্ষার জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তরুণদের বিপন্ন করে মুনাফা অর্জন করতে পারে না।
অন্যদিকে, মেটা এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং তারা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র দাবি করেন, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় তাদের রেকর্ড যথেষ্ট শক্তিশালী।