যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্ল্যাকসবার্গে অবস্থিত ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, বহুল ব্যবহৃত আগাছানাশক গ্লাইফোসেট মৌমাছির মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বদলে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্গারেট কোভিলন এবং পিএইচডি শিক্ষার্থী লরা ম্যাকহেনরির নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মৌমাছিদের খাদ্য সংগ্রহের হার ১৩ শতাংশ হ্রাস পায়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, গ্লাইফোসেট সরাসরি মৌমাছিদের মেরে না ফেললেও এটি তাদের মস্তিষ্কের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনে। এটি অনেকটা অ্যালার্জির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো কাজ করে, যা মৌমাছির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। গ্লাইফোসেট এমন একটি এনজাইমকে লক্ষ্য করে কাজ করে যা আগাছা দমনে কার্যকর, কিন্তু এই এনজাইম মৌমাছির শরীরে থাকে না বলে আগে ধারণা করা হতো যে এটি তাদের জন্য ক্ষতিকর নয়।
গবেষকদের মতে, মৌমাছিরা প্রতিদিন খাদ্য সংগ্রহের সময় যেসব এলাকায় বিচরণ করে, সেখানে প্রায়ই এই আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়। একটি মৌচাকের ক্ষেত্রে খাদ্য সংগ্রহের হার ১৩ শতাংশ কমে যাওয়া মানে হলো মধু উৎপাদন ও পরাগায়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া। এর ফলে মৌচাকগুলোর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও টিকে থাকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মৌমাছির মস্তিষ্কের অ্যামিনো অ্যাসিড এবং নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যে গ্লাইফোসেট যে পরিবর্তন আনে, তা তাদের খাদ্য সংগ্রহের দক্ষতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। পরাগায়নকারী পতঙ্গ হিসেবে মৌমাছির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগাছানাশকের ব্যবহার এবং এর নিয়মকানুন নিয়ে পুনরায় ভাবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষক দল।