যুক্তরাষ্ট্রের ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর লেখা ও মানুষের লেখা গল্পের গুণগত মানের পার্থক্য নিয়ে একটি নতুন গবেষণা পরিচালনা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা এআই-এর তৈরি গল্পগুলোকে মানুষের লেখা গল্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, বিশেষ করে যখন তাদেরকে ভুলবশত বলা হয়েছে যে গল্পগুলো মানুষ লিখেছে। এই গবেষণাটি প্রযুক্তি ও মানুষের সাহিত্যিক রুচির মধ্যকার সম্পর্ক বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গবেষণার পদ্ধতি
গবেষণাটিতে ১৮ থেকে ৮১ বছর বয়সী ১,৬৮২ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। তিনটি ধাপে সম্পন্ন এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কিছু কাল্পনিক গল্প পড়তে দেওয়া হয়। তাদের কাজ ছিল গল্পগুলো পড়ে সেগুলো এআই নাকি মানুষের লেখা তা শনাক্ত করা এবং একইসঙ্গে গল্পের মান যাচাই করা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অংশগ্রহণকারীদের একটি করে মানুষের লেখা এবং একটি চ্যাটজিপিটি-র লেখা গল্প দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ৬০ শতাংশেরও বেশি অংশগ্রহণকারী সঠিকভাবে এআই-এর লেখা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কেন এআই-এর লেখায় মানুষের আগ্রহ
গবেষণার প্রধান লেখক এবং ভিলানোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ব্রেইন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ডিনা ওয়েসবার্গের মতে, মানুষ সৃজনশীল কাজে আবেগ ও অভিজ্ঞতার ছাপ খোঁজে, যা এআই-এর ক্ষেত্রে তারা অবমূল্যায়ন করে। তবে এআই-এর লেখাগুলো অনেক বেশি সহজবোধ্য, সরাসরি এবং স্পষ্ট হওয়ায় সাধারণ পাঠক তা সহজেই পছন্দ করছে।
এর আগের ২০২৩ সালের এমআইটির একটি গবেষণাতেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো এআই সিস্টেমগুলো মূলত কয়েক দশক ধরে মানুষের লেখা সাহিত্য ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রশিক্ষিত হয়েছে। ফলে এআই সেই শৈলী ও ভাষাই ব্যবহার করছে যা মানুষ আগে থেকেই পছন্দ করে আসছে। ওয়েসবার্গ জানান, এআই মানুষের রুচি নতুন করে তৈরি করছে না, বরং মানুষের বিদ্যমান প্রবণতাগুলোকেই আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করছে।