ঢাকাSaturday , 8 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মেরুদণ্ডের ব্যথা সারাতে আশার আলো: অস্টিওপরোসিসের ওষুধে মিলল সমাধান


August 8, 2026 3:00 am
Link Copied!

যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গে মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয় এবং পিঠের ব্যথা নিরাময়ে নতুন আশার আলো দেখালেন গবেষকরা। ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের বিজ্ঞানীরা জেব্রাফিশের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষতিকর পরিবর্তন রোধ করতে কার্যকর। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তির নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষক ড. এরিকা কাগু।

গবেষণা অনুযায়ী, মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলো শরীরের স্বাভাবিক শক অ্যাবজর্বার বা স্প্রিং হিসেবে কাজ করে। কিন্তু জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই ডিস্কগুলোর ভেতরে খনিজ পদার্থের অস্বাভাবিক জমাট বাধার ফলে মেরুদণ্ডের হাড় শক্ত হয়ে যায় এবং দুই হাড়ের মাঝে জোড়া লেগে যায়। একে ইন্টারভারটিব্রাল ডিস্ক ডিজেনারেশন (আইভিডিডি) বলা হয়, যা মানুষের দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ।

গবেষকরা জেব্রাফিশের শরীরে এমন একটি জিনের ত্রুটি শনাক্ত করেন, যা মানুষের কোলাজেন প্রোটিনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই ত্রুটির ফলে জেব্রাফিশের মেরুদণ্ডে খনিজ জমে হাড় শক্ত হয়ে যেতে দেখা যায়। এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মেরুদণ্ডের সমস্যার সাথে হুবহু মিলে যায়। পরবর্তী ধাপে গবেষকরা অস্টিওপরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিসফসফোনেট নামক ওষুধ ব্যবহার করে দেখেন যে, এটি মেরুদণ্ডের হাড় শক্ত হওয়া বা খনিজ জমাট বাঁধা সফলভাবে রুখে দিচ্ছে।

গবেষক দলের প্রধান ড. এরিকা কাগু জানান, কয়েক দশক ধরে মেরুদণ্ডের ডিস্ক রোগের একমাত্র সমাধান হিসেবে কেবল অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র ভরসা। তবে এই গবেষণায় পাওয়া তথ্যগুলো মেরুদণ্ডের হাড় শক্ত হওয়ার জীববিজ্ঞান বুঝতে সাহায্য করবে। নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি ভবিষ্যতে সাধারণ রোগীদের জন্য নিরাপদ ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

আর্থ্রাইটিস ইউকে এবং বিএসআরসি-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল ‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, মেরুদণ্ডের ব্যথা প্রতিকারে এটি একটি বড় মাইলফলক, কারণ বর্তমানে প্রচলিত কোনো ওষুধই এই রোগ পুরোপুরি সারাতে পারে না। তবে এই পদ্ধতিটি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগের আগে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।