ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেলের কাজ: বেতন বৈষম্য কমানোর প্রস্তাব

Truth Post
July 8, 2026 6:13 pm
Link Copied!

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধান কমিয়ে ১:৮ এর পরিবর্তে ১:৭.৫ করার প্রস্তাব দিয়েছে সুপারিশ পর্যালোচনাকারী সচিব কমিটি। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ, কিছু ভাতা বৃদ্ধি বা সংশোধন এবং দুই ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গেজেট জারিতে আরও বিলম্ব হতে পারে। কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি প্রকাশে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের খসড়ায় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানের মতো সব গ্রেডে একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বেতন কাঠামো, ভাতা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ব্যয় পরিস্থিতির চিত্র নিম্নরূপ:
• একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয়: ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা।
• সিটি করপোরেশন এলাকায় মাসিক গড় ব্যয়: ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা।
• ছয় সদস্যের একটি পরিবারের মাসিক গড় ব্যয়: ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

জাতীয় বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রস্তাবিত মূল বেতনও কিছুটা সমন্বয়ের চিন্তা রয়েছে।

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। কমিশনের সুপারিশ ছিল ১:৮, তবে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১:৭.৫ করার পক্ষে মত দিয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত রয়েছে ১:৯.৪।

সরকার ১৯তম থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি হারে ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করা হবে না।

বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও সরকার তা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা ভাবছে। একইভাবে সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতা কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান,
“পে স্কেল নিয়ে অযথা তাড়াহুড়া করার সুযোগ নেই। এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়। ফলে প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত দিক যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে চায়। এর আগে আরও দুটো বৈঠক করবে সচিব কমিটি। এসব বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হওয়ার পরই সরকার নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে।