যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজসহ বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় ভিটামিন সি-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক আগে বিজ্ঞানী লিনাস পলিং উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করতে পারে বলে যে দাবি করেছিলেন, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান গবেষকরা বলছেন, পলিংয়ের তত্ত্বের আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য লুকিয়ে ছিল, যা আগে সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি।
গবেষকদের মতে, ভিটামিন সি খাওয়ার বড়ি বা ট্যাবলেট হিসেবে গ্রহণ করলে তা শরীরে খুব বেশি মাত্রায় পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু শিরার মাধ্যমে ইনজেকশন হিসেবে শরীরে প্রবেশ করালে এটি রক্তে বহুগুণ বেশি ঘনত্ব তৈরি করতে পারে। এই উচ্চ ঘনত্বে ভিটামিন সি সাধারণ পুষ্টি উপাদানের বদলে অনেকটা পরীক্ষামূলক ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের মতো আচরণ করে।
ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ক্যান্সার কোষের ভেতর হাইড্রোজেন পারক্সাইড তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় ক্যান্সার কোষগুলোর ডিএনএ এবং শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সেগুলো মারা যায়। সুস্থ কোষগুলোর তুলনায় ক্যান্সার কোষগুলো এই পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল।
তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ছোট আকারের কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, কেমোথেরাপির পাশাপাশি ইনজেকশন হিসেবে ভিটামিন সি নিলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হতে পারে। অনেক রোগী ব্যথা ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি সাধারণ কোনো স্বাস্থ্যকর পানীয় বা সাপ্লিমেন্ট নয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা বা জিনগত রোগের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের কঠোর তত্ত্বাবধান ছাড়া এর ব্যবহার কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। পলিংয়ের তত্ত্বের সত্যতা থাকলেও একে এখন পর্যন্ত সাধারণ ক্যান্সারের স্বীকৃত চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। বড় পরিসরে আরও কার্যকর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।