বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাক্ষরতা কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা ও ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সমিতি সভাপতি ড. মো. শফিকুল ইসলাম। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, প্রকৃত জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতার সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন। একজন মানুষ যখন নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন, তখনই তিনি শিক্ষার প্রকৃত শক্তির উপলব্ধি করতে পারেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এখনো ২২ শতাংশের বেশি মানুষ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ড. শফিকুল ইসলামের মতে, শুধু সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করলেই হবে না, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ববাজার ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে তরুণ প্রজন্মকে ব্যবহারিক দক্ষতায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।
দেশের ৫৮টি জেলার সদর উপজেলায় চলমান কার্যকর সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৪৬০ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ১০০ ঘণ্টা সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা উন্নয়ন শেখানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাক্ষরতা কার্যক্রমকে কেবল প্রকল্পভিত্তিক সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ করতে হবে। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ঝরে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রত্যেক নাগরিককে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলেই বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।