যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হিলসবরোতে একটি বাড়ির ছাদে আছড়ে পড়া বিরল উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে প্রাণের উৎপত্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এসইটিআই ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী পিটার জেনিসকেনসসহ এক আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই উল্কাপিণ্ডটি নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। এই আবিষ্কারটি এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কীভাবে প্রাচীন গ্রহাণু থেকে পৃথিবীর শুরুর দিকে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পৃথিবীতে এসেছিল।
ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটি এলাকায় দিনের আলোতে একটি উজ্জ্বল উল্কা দেখা যায়। এটি ঘণ্টায় প্রায় ৩২ হাজার মাইল বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং নিউ জার্সির হিলসবরোর একটি বাড়ির ছাদে আঘাত হানে। ওই বাড়ির মালিক বিকট শব্দ শুনে ঘরের ছাদে গর্ত দেখতে পান এবং গন্ধ ও ধূলিকণার মধ্যে উল্কাপিণ্ডের ভগ্নাংশগুলো খুঁজে পান। বাড়ির মালিক দ্রুত সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করায় উল্কাপিণ্ডটি অনেকটা অক্ষত অবস্থায় বিজ্ঞানীদের হাতে পৌঁছায়।
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
গবেষণায় দেখা গেছে, উল্কাপিণ্ডটি সিএম-টাইপ কার্বোনেশাস কন্ড্রাইট পরিবারের একটি বিরল সদস্য। এটি সাধারণত গ্রহাণুর উপরিভাগে থাকা প্রাচীন লবণাক্ত পানি এবং জৈব যৌগের উপস্থিতি নির্দেশ করে। নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের গবেষক মাইক জোলেনস্কি জানান, উল্কাপিণ্ডটিতে প্রচুর পরিমাণে লবণের অস্তিত্ব মিলেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো গ্রহাণুর এমন একটি অংশ থেকে এসেছে যেখানে তরল পানি বাষ্পীভূত হয়ে লবণ ঘনীভূত হয়েছিল।
প্রাণের উপাদান
বিজ্ঞানীরা এই উল্কাপিণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের উপস্থিতি পেয়েছেন। গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী পিটার জেনিসকেনসের মতে, এই ধরনের আদিম উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে জৈব পদার্থ বহন করে আনার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। এই অমূল্য নমুনার কিছু অংশ নিউ ইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সংরক্ষিত রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত গবেষণা চালানো যায়।