যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ উত্তর গোলার্ধের বেশ কিছু অঞ্চলে আগামী বুধবার সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে নর্থ ক্যারোলিনা পর্যন্ত উত্তরের বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে, যার ফলে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঢাকা পড়ে। অন্যদিকে আংশিক সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এলেও তারা পুরোপুরি সারিবদ্ধ থাকে না। এর ফলে সূর্যকে দেখতে অনেকটা কাস্তের মতো বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মনে হয়। নাসা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসিতে দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে এই আংশিক গ্রহণ শুরু হবে, যেখানে সূর্যের ৪ শতাংশ ঢাকা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া স্পেনের লিওন শহরে রাত ৮টা ২৮ মিনিটে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ শুরু হবে যা স্থায়ী হবে দুই মিনিট। এটি ১৯০৫ সালের পর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে দৃশ্যমান প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।
সতর্কতা ও নিরাপত্তা
আমেরিকান একাডেমি অফ অপথালমোলজির পরামর্শ অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে চোখে স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি অন্ধত্বও হতে পারে। গ্রহণের সময় সূর্য দেখার জন্য সাধারণ চশমা ব্যবহার করা যাবে না। এর পরিবর্তে বিশেষ ফিল্টারযুক্ত গ্রহণ দেখার চশমা বা হ্যান্ডহেল্ড ভিউয়ার ব্যবহার করা আবশ্যক।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা
এই সূর্যগ্রহণটি বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের করোনা নিয়ে গবেষণার এক বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। নাসার ইক্লিপস প্রোগ্রাম ম্যানেজার কেলি কোরেক জানিয়েছেন, পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে অন্ধকার নেমে আসে, তা নিয়ে গবেষণার জন্য নাসা বিশেষ বেলুন ও উচ্চতার জেট বিমান ব্যবহার করবে। সৌরজগতের অন্য কোনো জায়গা থেকে সূর্যের করোনাকে যেভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়, পৃথিবী থেকে এই গ্রহণের সময় তা সম্ভব হয়।
ভবিষ্যৎ মহাজাগতিক ঘটনা
পরবর্তী আংশিক সূর্যগ্রহণ ২০২৭ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশসহ স্পেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে দেখা যাবে। এরপর ২০৪৪ সালের ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।