বাংলাদেশের কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক নারীকে হত্যার পর তাঁর লাশ টুকরো করে ৯টি পলিথিন প্যাকেটে ভরে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অভিযুক্ত লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি ছিলেন।
ঘটনার পটভূমি
নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম পেশায় জাহাজকর্মী। তাদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। অভিযুক্ত লাইলী আক্তার গত ১ আগস্ট ফরিদার বাড়ির একটি টিনের ঘর ভাড়া নেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
অভিযুক্তের অতীত ইতিহাস
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার লাইলী আক্তার ২০২১ সালের নভেম্বরে দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার মামলার অন্যতম আসামি। ওই শিশুটি লাইলী ও তার বাবার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। সেই মামলায় দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েই তিনি আবার দেবীদ্বারে এসে বসবাস শুরু করেন।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও চারজনের নাম জানিয়েছেন। পুলিশ তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা প্যাকেটে লাশের অধিকাংশ অংশ পাওয়া গেলেও এখনো মাথা ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেগুলো উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।