রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে গত ৩০ জুলাই রাতে অস্ত্রধারীদের হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। হামিদা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করলেও ঘটনার দশ দিন পার হওয়ার পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ঘটনার বিবরণ
গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কালিকাপুর গ্রামে হামিদা বেগমের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাবুল শেখ, মামুন শেখ, নয়ন মোল্লা, আলম শেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে হামিদা বেগম, তার স্বামী নূর শেখ ও ছেলে জুয়েল শেখকে জিম্মি করে নগদ ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় এবং আহতদের কালুখালী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভুক্তভোগী হামিদা বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কেবল সম্পদই লুট করেনি, বরং হত্যার উদ্দেশ্যেই তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল। এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার স্বজনদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভাইয়ের ওপরও বিভিন্নভাবে হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সোহেল মোল্লা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশ আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।