যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় কৃষি যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জন ডির তাদের নিজস্ব সেলফ-রিপেয়ার বা স্ব-মেরামত সেবার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জামি হিন্ডম্যান দাবি করেছেন, তাদের নতুন ‘অপারেশনস সেন্টার প্রো সার্ভিস’ সফটওয়্যারটি মালিকদের সহজেই যন্ত্রপাতির ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগটি মূলত কৃষকদের নিজেদের যন্ত্র নিজেরাই সারিয়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন ও জটিলতা
বর্তমানে জন ডিরের ট্রাক্টরসহ কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডিও ও ফোর-জি সংযোগে সজ্জিত। অনেক ক্ষেত্রে এই যন্ত্রগুলো কোনো মানুষ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে। তবে এসব যন্ত্রে ডিজিটাল লক থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা চাইলেই যেকোনো পার্টস পরিবর্তন বা মেরামত করতে পারেন না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মামলা-মোকদ্দমার দিকে গড়িয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও কৃষকদের অনীহা
২০২৫ সালে চালু করা জন ডিরের এই রিপেয়ার সেবার বার্ষিক খরচ ১৯৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫,৯৯৯ ডলার পর্যন্ত। কোম্পানিটির দাবি, এটি ব্যবহারকারী বান্ধব। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ লাখ খামার থাকলেও তাদের এই সেবা ব্যবহারকারী সক্রিয় কৃষকের সংখ্যা মাত্র এক হাজারের মতো। মিজুরির কৃষক জ্যারেড উইলসনসহ অনেক কৃষকই মনে করেন, জটিল যান্ত্রিক ত্রুটির ক্ষেত্রে এই সফটওয়্যার খুব একটা কার্যকর নয়। তারা অভিযোগ করেছেন, জন ডির এখনও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অ্যাক্সেস দিচ্ছে না।
আইনি লড়াই ও অদূর ভবিষ্যৎ
জন ডির সম্প্রতি ৯৯ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাথেও আইনি মীমাংসা করেছে। তবে মেরামতের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের দাবি, এগুলো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। সমালোচকদের মতে, জন ডির মূলত মুনাফার দিকেই বেশি মনোযোগী। যদিও কোম্পানিটি তাদের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছে, তবুও মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের আস্থা ফেরানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।