ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডেনমার্কের (DTU) গবেষকরা একটি অতি ক্ষুদ্র ন্যানোলেজার উদ্ভাবন করেছেন, যা ভবিষ্যতের কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। অধ্যাপক জেসপার মর্ক এবং তার দলের তৈরি এই উদ্ভাবনটি কম্পিউটারের চিপে বিদ্যুতের পরিবর্তে আলোর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে সাহায্য করবে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে কম্পিউটারের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও প্রায় অর্ধেক কমে আসবে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে আমাদের কম্পিউটারের চিপের ভেতর ইলেকট্রিক সিগন্যালের মাধ্যমে তথ্য চলাচল করে, যা তাপ উৎপন্ন করে এবং তথ্যের গতির সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। নতুন এই ন্যানোলেজারের মাধ্যমে হাজার হাজার লেজার একটি ছোট চিপে স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা ফোটন বা আলোর কণা ব্যবহার করে ডেটা স্থানান্তর করবে। এর ফলে ডিভাইসগুলো দ্রুতগতির পাশাপাশি অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে।
প্রযুক্তিটি নিয়ে অধ্যাপক জেসপার মর্ক বলেন, এই ন্যানোলেজারটি এমন এক প্রজন্মের যন্ত্রাংশ তৈরির সুযোগ করে দেবে, যা ক্ষুদ্র আকারের পাশাপাশি উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন। এটি শুধু তথ্য প্রযুক্তিতেই নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের সেন্সর ও উচ্চ-রেজোলিউশনের ইমেজিং প্রযুক্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ন্যানোলেজারটি একটি ন্যানোক্যাভিটি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা অত্যন্ত সীমিত জায়গায় আলোকে আবদ্ধ এবং ঘনীভূত করতে পারে। সাধারণত লেজারের ক্ষুদ্রতম আকার নিয়ে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, এই উদ্ভাবন তা ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হলো এটিকে বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে কার্যকর করা। গবেষকদের মতে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে এটি ব্যবহারিক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এই উদ্ভাবন স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার এবং উন্নত মেডিকেল সেন্সরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।