যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এল-থ্রি হ্যারিস (L3Harris) কোম্পানির কৌশল ও ইন্টিগ্রেশন বিভাগের প্রেসিডেন্ট রব মিটরেভস্কি জানান, ইরান অল্প খরচের ড্রোন এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মূলত তিনটি: খরচ, কার্যকারিতা এবং শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা। সাধারণত একটি ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষায় বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধুমাত্র দামী সরঞ্জাম দিয়ে দামী সম্পদ রক্ষার চিরাচরিত ধারণার বাইরে এসে সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সময় এসেছে।
ইরানের শাহেদ ড্রোনের মতো আক্রমণগুলো প্রমাণ করেছে যে, ভবিষ্যতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী হতে হবে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ঝাঁকের (swarm) মোকাবিলায় পেন্টাগনকে তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কার্যকর হলেও, যুদ্ধের বাস্তবতায় এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প ও পেন্টাগনকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং উন্নত রাডার তৈরির জন্য শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।