প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ টোঙ্গায় অবস্থিত হাঙ্গ টোঙ্গা-হাঙ্গ হাপাই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল মেঘ বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস ধ্বংস করছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এই তথ্য জানিয়েছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রশমনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কারটি মিথেন দূষণের প্রভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়নে সহায়তা করবে।
২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি এই শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত ছাই এবং সমুদ্রের লোনা পানির মিশ্রণ বায়ুমণ্ডলে এমন এক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়েছে, যা মিথেন অণু ভেঙে ফেলতে সক্ষম। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে আগ্নেয়গিরির মেঘে প্রচুর পরিমাণে ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি পাওয়ার পর এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ফরমালডিহাইড মিথেন ধ্বংসের একটি রাসায়নিক চিহ্ন হিসেবে কাজ করে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অগ্ন্যুৎপাতের সময় প্রায় ৩০০ গিগাগ্রাম মিথেন নির্গত হয়েছিল, কিন্তু একই সঙ্গে মেঘটি প্রতিদিন ৯০০ মেগাগ্রাম হারে মিথেন বায়ুমণ্ডল থেকে অপসারণ করেছে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত আগ্নেয়গিরির ছাই, সূর্যালোক এবং ক্লোরিন পরমাণুর মিথস্ক্রিয়ার ফলে সম্পন্ন হয়েছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ম্যাথিউ জনসন জানান, আগ্নেয়গিরির ছাই যে বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার করতে ভূমিকা রাখতে পারে, তা আগে অজানা ছিল।
মিথেন গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদিও বায়ুমণ্ডলে এর স্থায়িত্ব কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় কম, তবুও এটি তাপ আটকে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আগ্নেয়গিরির এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটিকে অনুসরণ করে কৃত্রিমভাবে বায়ুমণ্ডল থেকে মিথেন অপসারণের উপায় উদ্ভাবন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে গবেষণা চালানো যেতে পারে। তবে এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড কমানোর কোনো বিকল্প নয় বলে তারা সতর্ক করেছেন।