বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শহর ও এর আশপাশের অন্তত সাতটি এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় তিন হাজার পরিবারের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ গত এক মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাট, বাড়ির উঠান এমনকি বসতঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, পলাশপোল, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, রইচপুর ও মধ্য কাটিয়ার নিম্নাঞ্চল এবং সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের শৈলকের বিল-সংলগ্ন এলাকায় এই জলাবদ্ধতা প্রকট। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলীনুর খান বলেন, পানিনিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ উন্মুক্ত করা এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ৮৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জুলাই এক দিনেই ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি, কালভার্ট ও স্লুইসগেটের সমস্যা এবং নালা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে পারছে না।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল খালেকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া ঘের বা বাঁধ অপসারণ করা হবে।
এদিকে, আগামী ১৮ আগস্ট জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সাতক্ষীরা পরিদর্শনে আসবেন। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানিয়েছেন, তার পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে কয়েকটি ঘেরের একাংশ কেটে পানি চলাচলের পথ সাময়িকভাবে তৈরির চেষ্টা চলছে।