সাংহাইতে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো একক দেশের আধিপত্যের বিরোধিতা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। এআই খাতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং সামরিক ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোনো একটি দেশের একক নিয়ন্ত্রণে না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
- প্রযুক্তিটির নিরাপদ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
- বর্তমানে চীনের এআই প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে বিশ্ববাজারে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
- এআই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার, সাইবার অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এর অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য এসেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সাংহাইতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈশ্বিক প্রযুক্তি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের একচ্ছত্র সম্পত্তি হতে পারে না। বর্তমানে প্রযুক্তির এই নতুন যুগে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, তার মাঝে জিনপিংয়ের এই বক্তব্যকে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট শি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানবতার ভবিষ্যৎ। এই শক্তির অপব্যবহার কিংবা কোনো একটি দেশের আধিপত্য বিশ্বশান্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এআই সংক্রান্ত নীতিমালা ও শাসনব্যবস্থায় বৈশ্বিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চীনের এআই কোম্পানিগুলো বর্তমানে বিশ্ববাজারে মার্কিন প্রযুক্তির প্রধান প্রতিযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। এর ফলে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে শীতল যুদ্ধ চলছে, তার আঁচ এখন এআই খাতেও স্পষ্ট।
বিশ্লেষণ
চীনের প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানটিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কৌশলগত বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে চীন চায় এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে, অন্যদিকে তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের নিষেধাজ্ঞার ভয় পাচ্ছে। একক আধিপত্যের বিরোধিতা করে চীন মূলত উন্নয়নশীল বিশ্বকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে পশ্চিমা দেশগুলো একতরফাভাবে এআই সংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করতে না পারে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও বাস্তব। এআই এখন কেবল সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যম নয়, বরং এটি সমরাস্ত্র নির্মাণ এবং সাইবার গোয়েন্দাবৃত্তিতে বড় ভূমিকা রাখছে। শি জিনপিংয়ের এই সতর্কতা মূলত একটি ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে চীনের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই প্রযুক্তির এই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে, নাকি এআই এখন নতুন এক অস্ত্র প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠবে—সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: france24.com