জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলায় দুই সেনা নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরান সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এটি ছিল গত শনিবার রাতে চালানো ধারাবাহিক হামলার অষ্টম ঢেউ, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হওয়ার জেরে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবার রাতে চালানো এই হামলা ছিল ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের অংশ।
- হামলায় মূলত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে পেন্টাগন দাবি করেছে।
- আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই নিখোঁজ থাকা তৃতীয় মার্কিন সেনার সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার জবাব দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে ইরান সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে অষ্টম দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অবকাঠামো ও অবস্থানগুলো ধ্বংস করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনার উপযুক্ত জবাব। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা যারা করেছে, তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। তবে অভিযানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এবং বিপ্লবী গার্ডের ঠিক কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে জর্ডানে হামলায় নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় মার্কিন সেনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সংঘাত একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের অশনিসংকেত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি এই সামরিক হস্তক্ষেপ তাকে আরও জটিল করে তুলল। ইরানের সরাসরি বিপ্লবী গার্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো, ওয়াশিংটন এখন আর ছায়া যুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না, বরং তারা সরাসরি তেহরানকে বার্তা দিতে চায়।
এই সংঘাতের ফলে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে। একদিকে মার্কিন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ে পাল্টা হামলার কঠোর পথ বেছে নিয়েছে, অন্যদিকে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে—তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বড় উদ্বেগের বিষয়। যদি এই পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তবে তা ইরান-ইসরায়েল ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সমীকরণ চিরতরে বদলে দিতে পারে।
সূত্র: france24.com