যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ট্রেজারি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দশ বছর আগে ২০১৬ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। বর্তমান এই উচ্চ ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কারণ এর ফলে সরকারের ভবিষ্যতে ঋণের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছিল, ২০২৬ অর্থবছরের শেষ নাগাদ ঋণের পরিমাণ ৩৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা আগেই ছাড়িয়ে গেছে। সিবিও-র প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩৬ সাল নাগাদ মার্কিন ঋণের পরিমাণ ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে এবং বর্তমানে দেশটি ৪১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এই ঋণের বোঝা বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্প ও বাইডেন প্রশাসনের সময়কার বিপুল সরকারি ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান সুদের হারের প্রভাব রয়েছে। মার্কিন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বন্ডের ইল্ড বা আয়ের হার বেড়েছে। এর ফলে বন্ধকী ঋণ, গাড়ি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারও প্রভাবিত হচ্ছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিবিদ ডেভিড জ্যাকস মনে করেন, ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি উদ্বেগের কারণ। তার মতে, সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব তাৎক্ষণিক না হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের বন্ড বাইব্যাক কার্যক্রম দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষক জন ক্যানাভানের মতে, বর্তমান ঋণের বিশাল পরিমাণের তুলনায় সরকারের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে তেমন বড় কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের সাথে জিডিপির অনুপাত ১২৫.৮ শতাংশ। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ হার। এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের নথিপত্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।