যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে করা বর্ণবাদী মন্তব্য অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে অধিকারকর্মী গোষ্ঠী ‘হোপ নট হেট’। গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ গবেষক প্যাট্রিক হারম্যানসনের মতে, প্ল্যাটফর্মের এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞাপনের আয় বাড়াতে এক্স (সাবেক টুইটার) ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিদ্বেষমূলক কন্টেন্ট ব্যবহারকারীদের ফিডে পৌঁছে দিয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন প্ল্যাটফর্মটিতে ৩ লাখের বেশি পোস্ট বিশ্লেষণ করে ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি সরাসরি বর্ণবাদী পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। জ্যুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা এবং কোবি মাইনুর মতো খেলোয়াড়রা এই বিদ্বেষের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। এছাড়া মুসলিম খেলোয়াড় জেড স্পেন্সকে কেন্দ্র করে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রবাহও লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্সের অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন তা ক্ষোভ বা উত্তেজনাপূর্ণ কন্টেন্টকে প্রাধান্য দেয়। এতে ঘৃণ্য মন্তব্যগুলো মূল ফিডের সামনে চলে আসে। প্ল্যাটফর্মটি এই বিদ্বেষ থেকে লাভবান হচ্ছে এবং এগুলোকে রোধ করার পরিবর্তে বরং প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন গবেষকরা।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, অনলাইনে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি এবং সার্ভিস প্রোভাইডারদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
গবেষকরা আরও জানান, অনলাইনে বর্ণবাদ দমনে বর্তমানে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা যথেষ্ট নয়। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, যে পোস্টগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসছে, সেগুলোর প্রচার কমিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া বড় ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুক্তরাজ্যের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অফকম জানিয়েছে, প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এদিকে ফুটবল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ফেয়ার গেম’-এর অন্য একটি প্রতিবেদনে অনলাইন অপব্যবহারকে ফুটবলের জন্য একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।