বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর ওপর ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মীর জাহিদ হাসান। বছরের পর বছর স্থায়ী সেতুর অভাবে নদী পারাপারে এলাকাবাসীর যে চরম ভোগান্তি ছিল, এই উদ্যোগের ফলে তা অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে পড়তেন। অনেককে বাধ্য হয়ে সাঁতরে নদী পার হতে হতো, অথবা ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। নির্বাচনের সময় স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সেতু নির্মাণের প্রেক্ষাপট
নদীর ওপারে শত শত একর কৃষিজমি থাকায় বর্ষায় কৃষকদের যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে বাধ্য হতো। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো, যা অনেক সময় সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করত। এই জনদুর্ভোগ দেখে সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে মীর জাহিদ হাসান ড্রাম ও বাঁশ ব্যবহার করে সেতুটি নির্মাণ করেন।
জনমনে স্বস্তি
সেতুটি হওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী ও কৃষকরা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মলিন ও ধনেশ পাল জানান, আগে বর্ষায় ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হতো। এখন সেই ভয় দূর হয়েছে এবং বাজার বা হাসপাতালে যাওয়া সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছেও যাতায়াত ব্যবস্থা এখন অনেক বেশি নিরাপদ।
উদ্যোক্তার বক্তব্য
মীর জাহিদ হাসান বলেন, মানুষের দুর্ভোগ দেখে তিনি আর বসে থাকতে পারেননি। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের অবসান ঘটাতে তিনি টাঙ্গন নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন এই ভাসমান সেতুটি সচল রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।