যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ডে আবাসন সংকট দূর করতে আগামী ১০ বছরে ৭০ হাজারেরও বেশি সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আবাসনমন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিহুক এই প্রকল্পের কথা জানিয়েছেন। ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রাথমিক বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রেটার ম্যানচেস্টার, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার, সাউথ ইয়র্কশায়ার, নর্থ ইস্ট ইংল্যান্ড এবং লিভারপুলে এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হবে। এর আগে লন্ডনের জন্য আরও ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের আলাদা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
এটি দেশটির সরকারের ৩৯ বিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল সামাজিক আবাসন কর্মসূচির অংশ, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে মোট ৩ লাখ সাশ্রয়ী ঘর তৈরি করা। ঘোষিত নতুন আবাসনগুলোর ৬০ শতাংশ সামাজিক ভাড়ার (সোশ্যাল রেন্ট) জন্য বরাদ্দ থাকবে। মন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিহুক বিবিসি ব্রেকফাস্টকে জানান, সরকার একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করছে যাতে দ্রুত এই তহবিল ব্যবহার করে কাজ শুরু করা যায়।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে একে অপর্যাপ্ত হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শেল্টার-এর মতো আবাসন সংস্থাগুলো বলছে, ক্রমবর্ধমান গৃহহীন সমস্যা মোকাবিলায় এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়। বর্তমানে ইংল্যান্ডে ১৩ লাখ ৪০ হাজার পরিবার সামাজিক আবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পৌনে দুই লাখ শিশু অস্থায়ী আবাসন বা হোটেলে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে।
বর্তমানে লেবার সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, বর্তমান নির্মাণ গতি এই লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে ইংল্যান্ডে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার নতুন বাড়ি তৈরি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় গতির চেয়ে কম।
আবাসন সংকটের এই বাস্তবতায় গৃহহীন অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলের মতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে আবারও আবাসন নির্মাণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আবাসন ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।