বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলায় এলজিইডির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জালিয়াতি এবং ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবির অভিযোগে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার রিচি গ্রামের ঠিকাদার মো. জুবাঈদ মিয়া হবিগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান এবং টেন্ডারে অংশ নেওয়া দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী-বুরিনাও সড়কের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কালভার্ট নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা হয়েছে। বাদী দাবি করেন, নিয়মানুযায়ী তার প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ১০ লাখ টাকা ঘুস চাওয়া হয়। ঘুস দিতে অস্বীকার করায় তাকে বঞ্চিত করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।
মামলার সাক্ষী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর টিপু আহমেদ অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম তাকে ডেকে ঘুস দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় জামাল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়, যার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। তিনি জানান, সরকারি বিধান অনুযায়ী টেন্ডারের একটি লাইসেন্স জাল প্রমাণিত হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এই ক্ষোভ থেকেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় যোগ দিয়েছেন।
বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী জুম্মন শাহ জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন।