সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত এক জমকালো আয়োজনে অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে গবেষকদের ইগ নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ডিজিটাল ম্যাগাজিন ‘অ্যানালস অফ ইমপ্রোবাবেল রিসার্চ’-এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে এই অনুষ্ঠান হলেও, এবারই প্রথম ভিসা জটিলতার আশঙ্কায় তা সুইজারল্যান্ডে আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া এই সম্মাননা মূলত মানুষের আগ্রহ উদ্দীপক কিন্তু অদ্ভুত সব বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয়বস্তু
এবারের আসরে পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণাগুলোর মধ্যে ছিল আরশোলার দুধের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ, চুম্বনের বিবর্তনীয় ইতিহাস অনুসন্ধান এবং অন্তর্বাস বা আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার মতো অদ্ভুত সব বিষয়। এছাড়াও গবেষণার তালিকায় ছিল সাপে পা রাখার ফলে তাদের কামড়ানোর প্রবণতা পরীক্ষা, নাক ঝাড়ার সঠিক পদ্ধতি এবং নবজাতকের শরীরের গন্ধে মা-বাবার ভালো লাগার কারণ উদ্ঘাটন।
সামাজিক প্রেক্ষাপট ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
পুরস্কার পাওয়া গবেষকদের তালিকায় এমন গবেষণাও ছিল যেখানে দেখা গেছে, ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা অন্যের প্রয়োজনে কম সাড়া দেন এবং অনৈতিক কাজে বেশি লিপ্ত হন। সমাজ মনোবিজ্ঞানী ড. পল পিফ এ বিষয়ে বলেন, সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের অন্যের চাহিদার প্রতি উদাসীনতা বাড়তে থাকে। এছাড়া চুম্বনের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী মাটিল্ডা ব্রিন্ডল জানান, এটি আধুনিক কোনো আচরণ নয়, বরং ২ কোটি ১৫ লাখ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্য।
পুরস্কারের অনন্য বৈশিষ্ট্য
অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ট্রফি, যা দেখতে অনেকটা মাশরুম এবং মানুষের পায়ের সংমিশ্রণে তৈরি। এছাড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকদের পক্ষ থেকে মঞ্চে কাগজের তৈরি বিমান ছোড়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ইগ নোবেল পুরস্কারের সাথে মূল নোবেল পুরস্কারের কোনো সম্পর্ক নেই। অক্টোবর মাসে মূল নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।