যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল তাদের বার্ষিক সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন ইভেন্টে নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’ উন্মোচন করেছে। নতুন এই ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির সিইও জন টার্নাস বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। মূলত ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের অবস্থান তৈরি এবং ব্যবহারকারীদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যে এই ডিভাইসটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিভাইসটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ডলার। ১৬ অক্টোবর থেকে এটি প্রি-অর্ডার করা যাবে এবং ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে। সিএনইটি-র প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ডিভাইসটি নিয়ে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে বড় উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা যা ভাবছেন
সিএনইটি-র সম্পাদক অ্যান্ড্রু ল্যানসন মনে করেন, অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগটি ফোল্ডেবল ফোন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে পারে। অন্যদিকে, প্রধান লেখক কেটি কলিন্স মনে করেন, অ্যাপল বরাবরই এমন পণ্য বাজারে আনে যা তারা আবিষ্কার না করলেও সেটির মান নির্ধারণ করে দেয়।
তবে প্রথম প্রজন্মের ডিভাইস হিসেবে এর স্থায়িত্ব নিয়ে সতর্ক করেছেন সাংবাদিক ক্যাটলিন চেড্রাউই। তিনি প্রথম ব্যাচ কেনার আগে ব্যবহারের অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া সিএনইটি-র সিনিয়র সম্পাদক লরি গ্রুনিন দীর্ঘ চার বছর পর আইফোনে টাচ আইডি ফিচারের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ডিভাইসটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ডিসপ্লের ভাঁজ বা ক্রিস। সিএনইটি-র কন্টেন্ট ডিরেক্টর প্যাট্রিক হল্যান্ড জানিয়েছেন, ডিভাইসটির ভাঁজটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যা সহজে চোখে পড়ে না। এছাড়া এটি স্টাইলাস ব্যবহারের সুবিধাও যুক্ত করেছে। তবে স্মার্ট ডিসপ্লে হিসেবে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অবস্থান
বর্তমানে বাজারে থাকা স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ এবং গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডের সাথে আইফোন ডুও-এর তুলনা করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কন্টেন্ট দেখার জন্য আইফোন ডুও বেশি উপযোগী হলেও প্রথাগত ফোন থেকে ফোল্ডেবল ডিভাইসে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অন্যান্য ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলোকেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।