বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক এবং বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে কর্মরত মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িত থাকার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের হাজির করার নির্দেশ দেন। এই মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের কিরণতলী থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৪৬ বছর বয়সী একরামুল নিহত হন। ঘটনার পর থেকে এটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসে। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর একরামুল হক হত্যাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার মধ্যে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ অন্যতম।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার রাতে তাকে সেখান থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন।