যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন। এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রস্তুতি ও আলোচ্যসূচি
সম্মেলন সামনে রেখে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে প্রাক-আলোচনা করছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যানুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য দ্বন্দ্ব, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এবং তাইওয়ানের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু।
বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ
গত বছর বুসানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। ট্রাম্প ও শি জিনপিংকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা এই চুক্তি নবায়ন করবেন কি না। এর পাশাপাশি কৃষি পণ্য, জ্বালানি এবং বোয়িং এয়ারক্রাফটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এআই ও খনিজ সম্পদ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রযুক্তির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। এছাড়া বিরল খনিজ ও ধাতু, যা প্রতিরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য, তার সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের দরকষাকষি তুঙ্গে।
ভূ-রাজনীতি ও ফলাফল
তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে এই বৈঠকের স্থায়িত্ব। চীন এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এছাড়া ইরান ও অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক বিষয়েও দুই দেশের মতপার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো নাটকীয় পরিবর্তনের চেয়ে বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই উভয় দেশের মূল লক্ষ্য হতে পারে।