যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন এক সরকারি কর্মকর্তার তথ্যের বরাতে এনপিআর নিশ্চিত করেছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে দেশটির পিআরএসএম (PrSM) এবং এটিএসিএএম (ATCAM)-এর মতো নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কয়েকশ মাইল দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা মার্কিন পাইলটদের ঝুঁকি কমিয়ে সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ব্যবহারের মতো অস্ত্র এখনো মজুত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরণের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টারের মজুদ যুদ্ধের শুরু থেকে দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে বলে স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্যাট্রিয়টের প্রতিটি মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার এবং এগুলো তৈরি করাও বেশ সময়সাপেক্ষ। ক্ষেপণাস্ত্রের এই ঘাটতি ইউক্রেনসহ মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
এদিকে, মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) প্রথমবারের মতো এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ফ্লু টিকা অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মডার্নার তৈরি এই এমফ্লুসিভা (mFlusiva) টিকাটি তাদের কোভিড-১৯ টিকার মতোই কাজ করবে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভাইরাস ধ্বংস করতে উদ্দীপিত করে। যদিও কোভিড টিকা নিয়ে নানা বিতর্ক ও ভুল তথ্যের কারণে এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে জনমনে কিছুটা সংশয় রয়েছে, তবে ৪০ হাজার মানুষের ওপর চালানো ট্রায়ালে টিকাটি নিরাপদ এবং ৫০ বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের জন্য প্রচলিত টিকার চেয়ে বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। জুন মাসে এফডিএ-র স্বতন্ত্র উপদেষ্টারা সর্বসম্মতভাবে এই টিকা অনুমোদনের সুপারিশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো নতুন ফ্লু স্ট্রেইনের সাথে মিলিয়ে খুব দ্রুত টিকার ফর্মুলা পরিবর্তন করা সম্ভব।