যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন এক পারমাণবিক কৌশল নিয়ে কাজ করছে পেন্টাগন। এই নতুন পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে স্বল্পপাল্লার বা ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প বাড়ানো। যুদ্ধ বিভাগের নীতি নির্ধারণী বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবির নেতৃত্বে এই গোপনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর পক্ষ থেকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কোনো রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ করা হয়, তবে সরাসরি বড় আকারের পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে এই কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের সামনে সীমিত ও বিশ্বাসযোগ্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা মূলত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমানে রাশিয়া ও চীন—উভয় দেশই তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ইতিমধ্যে একাধিকবার পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়নে কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বল্পপাল্লার বা ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র মূলত নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে সমালোচকদের মতে, এ ধরনের অস্ত্রের ওপর গুরুত্ব বাড়ালে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং ছোট কোনো সংঘাত বড় ধরনের পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার শঙ্কা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র সীমিত করার চুক্তিটি কার্যকর না থাকায় নতুন এই কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।