যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া সিটিতে অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোতে বন্দির সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান দুটি বেসরকারি কারা প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক এবং জিও গ্রুপ সম্মিলিতভাবে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ত্রৈমাসিক রাজস্ব আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আয় হয়েছে। ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৬ হাজার অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ।
আয়ের উৎস ও সরকারি চুক্তি
কোরসিভিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক সুইন্ডল বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের মোট রাজস্ব আয় ২৭ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮৪.৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আটকের হার বৃদ্ধি এবং পরিচালনার খরচ কমানোর ফলে এই মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, চারটির মতো জেলখানা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে বিক্রির মাধ্যমে কোরসিভিক আলাদাভাবে ১.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। জিও গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ জোলি জানিয়েছেন, তাদের রাজস্ব আয় প্রায় ৯৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩২.১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি
কারাগারে বন্দি রাখার পাশাপাশি অভিবাসীদের ওপর নজরদারি চালানোর কাজেও কোম্পানিগুলো বড় অঙ্কের অর্থ আয় করছে। বিশেষ করে হাইতিয়ান অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর হওয়ায় অ্যানকেল মনিটর বা পায়ের গোড়ালিতে পরানো জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের হার বাড়ছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্মার্টওয়াচ এবং স্মার্টলিংক অ্যাপের মাধ্যমে তারা অভিবাসীদের ওপর নজরদারি নিশ্চিত করছে, যা তাদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিও গ্রুপ এবং কোরসিভিকের সাথে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা অতীতে এই কোম্পানিগুলোর সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া সিটিজেন্স ফর রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড এথিক্সের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে এই দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।