যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০৩০ সালের আদমশুমারি থেকে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের গণনা না করার এবং জাতি ও যৌন অভিমুখিতা সংক্রান্ত প্রশ্ন বাদ দেওয়ার একটি নতুন খসড়া নীতিমালা প্রচার করছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো এই খসড়াটি সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম ওয়্যার্ড। এর মাধ্যমে আদমশুমারির তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রশ্ন অন্তর্ভুক্তির ফলে সৃষ্ট বিকৃতি রোধ করতে জাতি ও যৌন অভিমুখিতা সংক্রান্ত তথ্য বাদ দেওয়া জরুরি। এছাড়া নথিপত্রহীন ব্যক্তিদের প্রকৃত বাসিন্দা নয় উল্লেখ করে তাদের আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত না করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন পুনরায় যুক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ
আদমশুমারির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ এবং কংগ্রেসের আসন পুনর্বণ্টন করা হয়। বিশ্লেষক এবং সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, নথিপত্রহীন ব্যক্তিদের গণনার বাইরে রাখলে বা জাতিগত পরিচয় সংগ্রহ বন্ধ করলে যেসব এলাকায় সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের বসতি বেশি, সেসব এলাকা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
কানেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডানা বয়ড জানান, এই তথ্য বাদ দিলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা বা তাদের প্রতি বৈষম্য নিরুপণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক কর্মসূচি আদমশুমারির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অর্থায়ন করে, যা নতুন নিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত বিশেষ অনুদান পাওয়ার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এবং ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারির বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নাগরিকত্ব প্রশ্ন যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সীমিত করে দেওয়া।